« পূর্ববর্তী সংবাদ |
২০০৫ সালে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র রায়হান চৌধুরী চালু করেন 'আই ব্লাড'। দেশের প্রথম অনলাইন ব্লাড ব্যাংকটি তৈরিতে তাঁর সঙ্গী ছিলেন চার বন্ধু_রাজন, জাহিদ, প্রবীর এবং ফয়সাল। নানা জটিলতায় কিছু দিন পর ব্লাড ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাটি খুবই আহত করে রায়হানকে। দমে না গিয়ে আবারও প্রস্তুতি নিতে থাকেন তিনি। শেষপর্যন্ত স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটে ২০০৯ সালে। তত দিনে পড়ালেখা শেষ করে প্রেসিডেন্সিতেই ডাটাবেজ অফিসারের চাকরি নিয়েছেন রায়হান। বন্ধুরাও ব্যস্ত নানা কাজে। রায়হান একা একাই তৈরি করে ফেললেন আই ব্লাডের প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি_ওয়েব পেজ ডিজাইন, গ্রাফিক্সসহ সাইটের সব কিছু। নতুনভাবে যাত্রা শুরুর পর থেকেই ক্যাম্পাসে ব্যাপক সাড়া ফেলে 'আই ব্লাড'। তখন থেকেই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার। সেই স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তবে আমরা যা করছি সেটাও কম নয়।' রায়হান জানালেন আই ব্লাডের মূল লক্ষ্য দ্রুত রক্তদাতাদের খুঁজে বের করা_'এটি রক্তদাতাদের সামাজিক যোগাযোগ সাইট, অনেকটা ফেইসবুকের মতোই। যার মাধ্যমে যে কেউই রক্তের প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন।'
রিকোয়েস্ট ব্লাড
আই ব্লাডের সদস্য সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। অল্প সময়ের এ অর্জনকে প্রাথমিক সাফল্য হিসেবেই দেখছেন প্রেসিডেন্সির ডাটাবেস অফিসার রায়হান চৌধুরী, 'মানুষের সাড়া খুবই আশাব্যঞ্জক। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি।' আলমগীর জানালেন সদস্য হওয়ার নিয়মাবলি_'অনলাইনে আই ব্লাডের ঠিকানায় ঢুকে যে কেউ সদস্য হতে পারেন এবং সাইটে ঢুকে সদস্য নন, এমন যেকোনো মানুষই রক্তের প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন। এ জন্য তাঁকে নিজের অবস্থান জানিয়ে অনুরোধ পাঠাতে হবে 'রিকোয়েস্ট ব্লাড' অংশে।' তিনি নিশ্চিত করলেন, 'সাইটের সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘি্নত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। কারণ সাইটে যোগাযোগের ফোন নম্বর এবং বাসার ঠিকানা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।' সাইটটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ইরান, আফগানিস্তান, বার্বাডোসসহ বেশ কটি দেশের নাগরিকও। রায়হানও চান সাইট আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করুক_'এতে রক্তের বন্ধন ছড়িয়ে যাবে বিশ্বব্যাপী।'
পার হয়ে বনু্লর পথ
আই ব্লাডের যাত্রাপথে সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম আর্থিক সমস্যা। রায়হান জানালেন, 'আন্তর্জাতিক মানের ওয়েবসাইট তৈরি যথেষ্ট খরচের ব্যাপার। এখনো সাইটের সব খরচ আমাকে একাই বহন করতে হচ্ছে।' এত কষ্টে বানানো সাইট নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা খুবই কষ্ট দেয় পেছনের দুই নিরলস কর্মীকে। অনেকেই ভাবেন, সাইটের সদস্য হলেই রক্ত দিতে হবে। উৎসাহ দিলেও এ কারণেই কেউ কেউ সদস্য হতে ভয় পান। তবে উদ্যোক্তারা জানালেন, আই ব্লাডের সদস্য হয়ে রক্ত না দিয়েও অন্যের কাছ থেকে রক্ত নেওয়া যায়।
ভালোবাসার হাত
'অনলাইনে রক্ত খোঁজার সহজ উপায় আই ব্লাড। অচেনা, অজানা অনেককে পরস্পরের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এটি।' সচলায়তন ব্লগে এভাবেই আই ব্লাড সম্পর্কে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. মিয়া হোসানিজ্জামান। কেবল তিনিই নন, দুই তরুণের এ কর্মকাণ্ডকে নানাভাবে উৎসাহ দিচ্ছেন শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ ক্যাম্পাসের অনেকেই। আলমগীর জানালেন, 'মানুষের আরো কাছাকাছি যেতে মাঝেমধ্যেই আয়োজন করা হয় সচেতনতামূলক প্রচারণা। এসব প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য, আই ব্লাড সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ।' কার্যক্রমকে আরো ছড়িয়ে দিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে স্বেচ্ছাসেবক তৈরির পরিকল্পনা করেছে আই ব্লাড। ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্সিতে তৈরিও হয়ে গেছে ১০ জনের একটি দল। নানা ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রচারণা চালানোর লক্ষ্যে আই ব্লাড শিগগিরই যাচ্ছে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটিতে। ভবিষ্যতে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে রক্ত সংক্রান্ত তথ্য জানানোর কথাও ভাবছেন তাঁরা। পরিকল্পনা আছে অন্যান্য ব্লাড ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করারও। আর এ সব কিছুরই মূল উদ্দেশ্য, প্রয়োজনে রক্ত সরবরাহের মাধ্যমে মানুষের সেবা করা।
আগ্রহীরা রক্তের প্রয়োজনে, সদস্য হওয়ার জন্য লগ ইন করতে পারেন_যঃঃঢ়://র-নষড়ড়ফ.পড়স এই ঠিকানায়।
« পূর্ববর্তী সংবাদ |
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
|
শনিবার
|
রবিবার
|
সোমবার
|
মঙ্গলবার
|
বুধবার
|
বৃহস্পতিবার
|
শুক্রবার
|
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন, সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com


































